ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মোট ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে ইতালি থেকে উনিশজন, গ্রিস থেকে দশজন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে গেছেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে অবৈধ কর্মসংস্থান ও মানবিক সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছে। ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সমাজে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার ঘটেছে।
গত কয়েক বছরে ইউরোপের এই তিন দেশেই অবৈধভাবে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশই পর্যটন, গৃহপরিচারিকা ও নির্মাণ খাতে কাজ করছিলেন, যেখানে কাজের শর্তাবলি ও বেতন প্রায়শই আইনি মানদণ্ডের বাইরে ছিল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ কর্মসংস্থান কর্মীদের শোষণ, বেতন না দেওয়া ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাবের দিকে ধাবিত হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সরকারসমূহ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্বাসন ও প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।
প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “বহিরাগত দেশে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ও মানবিকভাবে এই পদক্ষেপটি সম্পন্ন হয়েছে।” ফেরতপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পরিবারও এই সংবাদে স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মানবিক সংস্থা ও শ্রম অধিকার সমিতি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে আরও কাঠামোগত সমঝোতা ও কর্মসংস্থান নীতি গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সরকার বর্তমানে বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বৈধ চুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয় একত্রে বিদেশি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক ডাটাবেস গঠন, কর্মী রেজিস্ট্রেশন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ কর্মসংস্থান রোধে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কূটনৈতিক চ্যানেল ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য আইনগত কাঠামোকে দৃঢ় করা হবে।