শুক্রবার রাত ১২ টা থেকে শনিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ডিজিটাল ভূমিসেবা (land.gov.bd) সাইটের সার্ভার টানা বারো ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে বলে বাংলাদেশ সরকার আজ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই বন্ধের সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ায় ভূমি রেকর্ড, সনদ, হস্তান্তর এবং অন্যান্য অনলাইন সেবা ব্যবহারকারী নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ভূমি সংক্রান্ত লেনদেনের দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অস্থায়ী বন্ধের ফলে সেবা প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।

ডিজিটাল ভূমিসেবা ২০১৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকে দেশের ভূমি রেকর্ডের আধুনিকায়ন ও তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পূর্বে সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা আপডেট এবং ডেটা ব্যাকআপের জন্য স্বল্পমেয়াদী বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে এইবারের বন্ধের কারণ সম্পর্কে সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সার্ভার বন্ধের সময়ে ডেটা সুরক্ষা, সফটওয়্যার প্যাচ এবং সিস্টেমের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে। অতএব, এই ধরনের পরিকল্পিত বন্ধের পূর্বে যথাযথ তথ্যপ্রকাশ ও ব্যবহারকারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রদান করা প্রয়োজন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বন্ধের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে যাতে সিস্টেমের সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট কাজ সম্পন্ন করা যায় এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করা যায়। তবে, ভূমি রেকর্ডের জরুরি প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন কিছু ব্যবহারকারী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এই বন্ধকে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে দেখা যায়, অনেক নাগরিক এই সময়ে জমি হস্তান্তর বা সনদ নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় অসুবিধার মুখে পড়েছেন। কিছু আইনজীবীও উল্লেখ করেছেন, জরুরি মামলায় ডিজিটাল সেবার অপ্রাপ্যতা আদালতিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর করে দিতে পারে।

অধিকাংশ বন্ধের পর, মন্ত্রণালয় দ্রুত সেবা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সেবার বিকল্প হিসেবে স্থানীয় ভূমি অফিসে সরাসরি সেবা গ্রহণের সুযোগ প্রদান করবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পূর্বে যথাযথ বিজ্ঞপ্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে বিকল্প সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার ডিজিটাল সেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে নিয়মিত সিস্টেম অডিট, নিরাপত্তা আপডেট এবং ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে অনুরূপ বন্ধের ফলে সৃষ্ট অসুবধা কমে এবং ডিজিটাল ভূমিসেবার প্রতি জনবিশ্বাস বজায় থাকে।