দুর্গাপূজা উৎসবের শেষ দিনেই দিল্লির বিভিন্ন অংশে জ্ঞানেশবিরোধী আন্দোলনের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ও সরকারি ভবনগুলোতে প্রতিবাদকারীরা ব্যানার ও শিলালিপি দিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও কিছু এলাকায় সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই আন্দোলনটি মূলত জ্ঞানেশের কিছু নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে গঠিত, এবং দুর্গাপূজার শেষের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জনমত গঠনে প্রভাব বিস্তার করে।
এই ধরনের প্রতিবাদ পূর্বে ২০১৯ ও ২০২১ সালে দিল্লিতে দেখা গিয়েছে, যখন একই রকম নীতি বিরোধী আন্দোলন শহরের বিভিন্ন কোণে সঞ্চারিত হয়েছিল। জ্ঞানেশের রাজনৈতিক অবস্থান ও তার সমর্থক-প্রতিবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এই মুহূর্তে পুনরায় তীব্রতা পেয়েছে। বিশেষত, জ্ঞানেশের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও নীতি যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে আঘাত করেছে, তা এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অতএব, দুর্গাপূজার পরপরই এই আন্দোলনের উত্থানকে ধর্মীয় উৎসবের সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, যা জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মুখপাত্রের মতে, জ্ঞানেশের নীতি দেশের ধর্মীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষতি করছে, তাই তারা শান্তিপূর্ণ রূপে তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করতে চায়। অন্যদিকে, জ্ঞানেশের সমর্থকরা এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। দিল্লি শেরিফের অফিসের মুখপাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে বলেছেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কোনো বাধা নেই, তবে অশান্তি ও ধ্বংসাত্মক কাজের কোনো সহনশীলতা থাকবে না।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই আন্দোলনকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু মানুষ তা সমর্থন করে, আবার অন্যরা তা অপ্রয়োজনীয় ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারী বলে সমালোচনা করে।
দিল্লি পুলিশ এখনো পুরো শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গশ্বর ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। প্রশাসন স্থানীয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নিশ্চিত করতে বিশেষ দিকনির্দেশনা জারি করেছে। ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বিশাল জনসমাবেশের পূর্বাভাসে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা তাদের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করবে। শেষ পর্যন্ত, এই আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ভর করবে সরকারী নীতি সংশোধন, সামাজিক সংলাপের গতি এবং জনমতের পরিবর্তনের উপর।