সিলেটের একটি আবাসিক এলাকায় সকালের রান্নার সময় সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজের কারণে প্রবল আগুন ধরে পড়েছে, যার ফলে এক স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনায় তাদের কিশোরী মেয়েও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের তীব্র যত্ন বিভাগে ভর্তি আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাতটার দিকে নাসিমা নামে এক নারী রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর সময় হঠাৎ আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে পড়ে যান এবং দগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুই প্রাণের চিরতরে বিদায় নিতে হয়।
ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে আগে থেকেই লিকেজ ছিল, যা পরিবারের সদস্যরা হয়তো উপেক্ষা করেছিলেন বা সঠিকভাবে মেরামত করেননি। এর ফলে রান্নাঘরে অতিরিক্ত গ্যাস জমে উঠেছিল। সকালে চুলা জ্বালানোর সময় এই জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে পড়ে এবং তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। স্থানীয়রা জানান, আগুন এতটেন তীব্র ছিল যে ঘরের ভেতরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিবারটি নিম্নমধ্যবিত্ত এবং তাদের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল এই ঘর থেকেই, তাই এই দুর্ঘটনা তাদের জন্য ছিল এক অসহনীয় বিপর্যয়।
ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর শরীরের বেশিরভাগ অংশে দগ্ধের চিহ্ন ছিল এবং চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, তাদের মেয়ে গুরুতর অবস্থায় তীব্র যত্ন বিভাগে ভর্তি আছে এবং চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় জনসাধারণ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহত মেয়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। এলাকার মানুষেরা জানিয়েছেন, এমন দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করা জরুরি।
জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গ্যাস লিকেজের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা বাড়ছে, তাই গৃহস্থালিতে গ্যাস ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসন গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবে। এছাড়া, সাধারণ মানুষকে গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ ও কানেকশন নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনাটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।