রোডস্টারকে শূন্যে ভাসানোর মূল চালিকা শক্তি হিসেবে স্পেসএক্সের আদলে তৈরি কোল্ড‑গ্যাস থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেসলা কোম্পানি নতুন উড়ন্ত গাড়ি প্রকাশ করেছে। এই গাড়ির রকেট সংস্করণে সর্বোচ্চ দশটি থ্রাস্টার সংযুক্ত থাকবে, যা একসঙ্গে সক্রিয় হলে গাড়িটিকে দ্রুত উর্ধ্বমুখী গতি অর্জন করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিদ্যমান বৈদ্যুতিক গাড়ির সীমা অতিক্রম করে আকাশযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, ফলে পরিবহন ব্যবস্থার রূপান্তর ও নগর পরিকল্পনার পুনর্গঠন প্রত্যাশিত।
টেসলার এই উদ্যোগের পেছনে বহু বছরব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের ফলাফল রয়েছে। পূর্বে কোম্পানি স্বয়ংচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেমে অগ্রগতি অর্জন করলেও, আকাশে ভাসমান গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যমান। স্পেসএক্সের পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি ও কোল্ড‑গ্যাস থ্রাস্টার গবেষণা টেসলার ইঞ্জিনিয়ারিং দলকে অনুপ্রাণিত করে, ফলে রোডস্টারকে শূন্যে উড়িয়ে তোলার সক্ষমতা অর্জিত হয়। এই প্রযুক্তি গ্যাসের তাপমাত্রা হ্রাস করে উচ্চ থ্রাস্ট উৎপন্ন করে, যা প্রচলিত রকেটের তুলনায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বলে বিবেচিত।
প্রকল্পের ঘোষণার পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক টেসলার এই পদক্ষেপকে পরিবহন শিল্পে বিপ্লবী পরিবর্তন হিসেবে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। সাধারণ জনগণও উড়ন্ত গাড়ির সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে; বিশেষ করে নগর যাতায়াতের সময় কমাতে ও ট্রাফিক জ্যাম দূর করতে এই প্রযুক্তি সহায়ক হবে বলে ধারণা। তবে কিছু নাগরিক পরিবেশগত প্রভাব ও শব্দ দূষণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও পরিবহন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে টেসলার উড়ন্ত গাড়ির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক পর্যালোচনা শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে সীমিত উচ্চতা ও দূরত্বে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালিয়ে, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন প্রাপ্তির পর বাণিজ্যিক সেবা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দেশের মেট্রো রেল ও হেলিকপ্টার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত করে বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্পক্ষেত্রের সমন্বিত প্রচেষ্টায় টেসলার উড়ন্ত গাড়ি বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হলে, তা আঞ্চলিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে।