সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারী ভূমি বরাদ্দের লটারি আট মাসের বেশি সময় ধরে কোনো ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি। ১৩২টি প্লটের বিপরীতে মোট ৬৯৬ জন আবেদনকারী নিবন্ধিত হওয়ায়, প্রত্যাশিত সময়সীমা অতিক্রমের ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিচ্ছে। এই দেরি শুধুমাত্র আবেদনকারীর প্রত্যাশা নয়, বরং সরকারি সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। তাই, সংশ্লিষ্ট বিভাগ নতুন আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করে অতিরিক্ত আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে লটারি প্রক্রিয়া দ্রুততর হয় এবং দেরি কমে।
প্লট বরাদ্দের লটারি দেরির পেছনে মূলত দুইটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, প্রাথমিকভাবে জমা দেওয়া আবেদনপত্রের যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ডেটা সমন্বয়ের সমস্যার কারণে সময়সীমা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, লটারি পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কমিটি গঠনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মতবিরোধের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, একই ধরনের দেরি পূর্বে ২০১৯ সালে ঘটেছিল, যেখানে লটারি প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল। এই পটভূমি বিবেচনা করে, বর্তমান দেরি কেবল একক ঘটনা নয়, বরং সিস্টেমিক সমস্যার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে এই দেরি নিয়ে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আবেদনকারী সমবেত হয়ে স্থানীয় মিডিয়ায় তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত লটারি সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন। এক আবেদনকারী, যিনি ২০২৩ সালের মে মাসে আবেদন করেন, বলেন, “আট মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করা আমাদের জন্য আর্থিক ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে আমাদের বিশ্বাস পুনর্গঠন হবে।” এছাড়া, সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোও লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার জন্য সরকারকে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রথমে, আবেদনপত্রের যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেম চালু করা হবে, যা ডেটা ত্রুটি কমিয়ে দ্রুত যাচাই নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, লটারি পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন ত্রৈমাসিক কমিটি গঠন করা হবে, যার সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যাতে সিদ্ধান্তে কোনো একক পক্ষের প্রভাব না থাকে। তদুপরি, নতুন আবেদন গ্রহণের উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২০০টি প্লটের জন্য আবেদন উন্মুক্ত করা হবে, যা আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে লটারি প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত করবে। ভবিষ্যতে, লটারি সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ একটি পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশ করবে, যাতে আবেদনকারীরা ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।