আনু মুহাম্মদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকারের স্বার্থবিরোধী নীতি ও কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা দেশের মনোযোগকে মূল সমস্যার থেকে সরিয়ে নিতে চায়। তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো প্রকৃত চুক্তি নয়, বরং ট্রাম্পের আদেশনামা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, যা দেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রতি হুমকি স্বরূপ। এই মন্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র বিতর্কের সঞ্চার ঘটিয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংবেদনশীল মুহূর্তে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রের বিভিন্ন চুক্তিতে যুক্ত রয়েছে। তবে ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতি পরিবর্তনশীল হয়ে ওঠে, যেখানে একতরফা শর্ত আরোপের প্রবণতা দেখা যায়। পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোকে পুনর্বিবেচনা করা, শুল্ক নীতি কঠোর করা এবং কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এই নীতির অংশ হিসেবে প্রকাশ পায়। এই পটভূমিতে আনু মুহাম্মদের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক নীতির পরিবর্তনের একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

আনু মুহাম্মদের বক্তব্যের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল, বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে সরকারের নীতির প্রতি সমালোচনা হিসেবে ব্যবহার করে, আর শাসক দল এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রত্যাখ্যান করে। একাধিক বিশ্লেষক যুক্তি দেন, চুক্তিগুলোকে ‘আদেশনামা’ বলে অভিহিত করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা হ্রাস করে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিভ্রান্তি দেখা যায়; কিছু মানুষ চুক্তির প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে অনিশ্চিত, অন্যদিকে কিছু লোক সরকারকে সমর্থন করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

প্রতিক্রিয়ায় সরকার দ্রুত একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে সকল চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বচ্ছভাবে সম্পাদিত এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য যথাযথ তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করে দেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার পরিকল্পনা করেছে।