আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ বুধবার মোছা রোকসানা আক্তার সাক্ষ্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি জানিয়ে দেন যে তার ভাইকে এক গৃহযুদ্ধের সময়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে মারাত্মক আঘাত করা হয় এবং রগ কেটে ফেলা হয়। রোকসানা আক্তার, যিনি জুলাই মাসে শহীদ মো. উবাইদুল হকের বোন, এই ঘটনার সরাসরি সাক্ষী ছিলেন এবং ট্রাইব্যুনালের সামনে ঘটনার বিশদ বর্ণনা করে আদালতের রেকর্ডে তা সংযোজন করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, আক্রমণকারী দলটি হঠাৎই গুলিবিদ্ধ করে এবং রগ কেটে ফেলে, ফলে তার ভাই গুরুতর রক্তক্ষরণে শয্যাশায়ী হন। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য নতুন প্রমাণ সরবরাহের দিক থেকে অপরিসীম।

এই ঘটনার পটভূমি ২০২২ সালের জুলাই মাসে ঘটিত এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে নিহিত, যখন মো. উবাইদুল হক, যিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মী ছিলেন, তাকে গৃহযুদ্ধের এক গোষ্ঠী গুলি করে হত্যা করে। হকের পরিবার ও সমর্থকগণ দীর্ঘদিন ধরে তার মৃত্যুর দায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার চেয়ে আসছেন। রোকসানা আক্তার তার ভাইয়ের আঘাতের কথা তুলে ধরেছেন, যা সেই একই গোষ্ঠীর অপরাধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১, যেটি যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলো তদন্ত করে, এই নতুন সাক্ষ্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সাক্ষ্য প্রদান করার পর রোকসানা আক্তার এবং তার পরিবার গৃহযুদ্ধের শিকারদের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন দাবি করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের আঘাতের ফলে শারীরিক ক্ষতি ছাড়াও মানসিক আঘাতের পরিমাণ অপরিমেয়। স্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও এই সাক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক প্রচার ঘটেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা রোকসানা আক্তারের বর্ণনা শোনার পর গভীর শোক ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

অধিকর্তা পক্ষ থেকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ ইতিমধ্যে রোকসানা আক্তারের সাক্ষ্যকে রেকর্ডে সংযোজন করে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক জানিয়েছেন যে, এই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিকারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা গৃহীত হবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও এই ঘটনার পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এভাবে, রোকসানা আক্তারের সাক্ষ্য কেবল তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের আশা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।