জার্মানির ফেডারেল রেল সংস্থা (ডিএইচ) গতকাল জাতীয় পর্যায়ে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করে, যার মাধ্যমে দেশের সব রেলস্টেশন থেকে অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপটি রেলস্টেশনকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনের অভ্যন্তরে মদ্যপান, মদ বিক্রয় এবং মদ্যপানজনিত কোনো কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি রেল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি বলে গণ্য করা হয়েছে।
পূর্বে রেলস্টেশনে মদ্যপানজনিত অশান্তি, হিংসাত্মক সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা বহুবার ঘটেছে। বিশেষত বড় শহরের প্রধান স্টেশনগুলোতে মদ্যপানকারী যাত্রীদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে, যা ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত করে এবং অন্যান্য যাত্রীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে। এসব সমস্যার সমাধানে অতীতেও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তবে তা পর্যাপ্ত ফলপ্রসূ হয়নি। তাই ফেডারেল রেল সংস্থা এখন সম্পূর্ণ এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করে।
নির্দেশনা জারির পর রেল সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা একত্রে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সংস্থার প্রধান বলেন, “অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা রেলস্টেশনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।” রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি যুক্ত করেন, “এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি দূর করে রেল সেবার মানোন্নয়ন করতে পারব।” একই সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে স্বাগত জানায়, অন্যদিকে কিছু মদ্যপানকারী যাত্রী অস্বস্তি প্রকাশ করে এবং বিকল্প ব্যবস্থা চায়।
প্রয়োগের প্রথম দিন থেকে ফেডারেল রেল সংস্থা স্টেশনগুলোতে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। স্টেশন নিরাপত্তা কর্মী, ক্যামেরা সিস্টেম এবং র্যান্ডম চেকের মাধ্যমে অ্যালকোহল বহনকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং শাস্তি আরোপ করা হবে। পাশাপাশি, রেল সংস্থা স্টেশনের আশেপাশে অ্যালকোহল বিক্রয়কারী দোকানগুলোকে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং বিকল্প বিনোদনমূলক সেবা, যেমন ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টে অ-অ্যালকোহলিক পানীয়ের বিকল্প বাড়াবে। ভবিষ্যতে এই নীতি রেল সেবার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের রেল নেটওয়ার্কেও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।