বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এবারের দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে প্রায় ১৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসব পালনের জন্য বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছেন। বিজিবি মহাপরিচালক এই বিষয়ে সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অশান্তির আশঙ্কা দূর করার লক্ষ্যে বাহিনীর সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত দলগুলোকে সীমান্তের সংবেদনশীল অংশে মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত সীমান্তবাসী ও পূজা উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিশ্চিন্তে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীপাবলি উৎসবের পটভূমিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের এই পদক্ষেপটি আসলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার আলোকেই গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছর এই সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় পূজামণ্ডপ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে, যা অনেক সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করে। গত কয়েক বছরে সীমান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকে বিজিবি প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের উৎসবের জন্য সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবে। এছাড়াও, পূজামণ্ডপের কাছাকাছি এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও জনসমাগমের ওপর নজর রাখার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, পূজা উৎসবের আয়োজক কমিটির সদস্যরা ও সাধারণ জনগণ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুবই প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় পূজা কমিটির নেতারা জানান, বিজিবি'র এই আন্তরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করেন, বাহিনীর উপস্থিতিতে এবারের দীপাবলি উৎসব আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হবে। জনগণের মধ্যেও এই পদক্ষেপের প্রতি সন্তোষের প্রকাশ পাওয়া গেছে, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে নিরাপদ পরিবেশে উৎসব পালনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও বাণিজ্যিক চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎসবের দিনগুলোতে সীমান্তে বিশেষ নিরাপত্তা টিমগুলো সক্রিয় থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজেদের দায়িত্বের এলাকা পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতেও সীমান্তে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সফল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সীমান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ আরও মজবুত করবে এবং দুই দেশের সীমান্তবাসীদের মধ্যে সহাবস্থানের নতুন অধ্যায় খুলে দেবে। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা বিজিবি'র অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।