রাত দশটায় ঢাকা শহরের নাখালপাড়া এলাকায় গৃহবধূ রেহানা বেগমের মৃতদেহ পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি রাস্তায় পা দেওয়া অবস্থায় গলায় ফাঁসের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন স্বামী মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করে, কারণ নাখালপাড়া পূর্বে অনুন্নত এলাকায় গণতান্ত্রিক অপরাধের শিকার হয়েছে।

রেহানা বেগমের পরিবারে পূর্বে গৃহস্থালী হিংসার অভিযোগ রেকর্ডে ছিল। প্রতিবেশীরা জানায়, স্বামী মোহাম্মদ আলী অতীতেও গৃহে হিংসা ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন, তবে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নাখালপাড়া এলাকায় গৃহহিংসা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে, বিশেষত নিম্ন আয়ের গৃহস্থালিতে সামাজিক সহায়তার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবের ফলে। এ ধরনের অপরাধের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং শিকারীর সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়াই মূল কারণ।

পুলিশের মুখ্য কর্মকর্তা জানায়, মৃতদেহের গলায় ফাঁসের দাগের ভিত্তিতে হিংসাত্মক মৃত্যুর সন্দেহ রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা হবে। স্বামী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে হিংসা, হত্যাকাণ্ড এবং গৃহহিংসা সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেহানার আত্মীয়স্বজনের মুখে শোকের স্রোত প্রবাহিত হলেও তারা পুলিশকে ধন্যবাদ জানায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থা ঘটনাটিকে নারীর নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানায়।

অধিকর্তা গৃহহিংসা প্রতিরোধে গৃহস্থালী সহায়তা কেন্দ্রের কার্যক্রম বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং নাখালপাড়া এলাকায় জরুরি হেল্পলাইন সক্রিয় করা হবে। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে স্বামীকে হেফাজতে রাখবে এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। পাশাপাশি, নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা এবং শিকারীর জন্য সুরক্ষা শেল্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে সরকারী পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে।