২০ অক্টোবর সকাল থেকে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান জনসাধারণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। নৌকা, গাছগাছালি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভে সমৃদ্ধ এই উদ্যানটি ৯ বছর ধরে উন্নয়নকাজের নামে বন্ধ ছিল। আজকের উদ্বোধনে টিকিটের মূল্য দশ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকের জন্য প্রবেশযোগ্য করে তুলেছে। উদ্যানের পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে এবং এটি শহরের সবুজস্থান সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। উদ্যানের প্রধান প্রবেশদ্বার থেকে প্রবেশ করে দর্শনার্থীরা প্রাচীন বাগানের নকশা ও আধুনিক রঙের সমন্বয় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, উদ্যানের মধ্যে নতুন রেস্টুরেন্ট ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও নির্মিত হয়েছে, যা পরিবারিক ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

ওসমানী উদ্যানের বন্ধের পেছনে মূলত ২০১৪ সালে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত রোড সম্প্রসারণ ও পার্কের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কাজটি দীর্ঘায়িত হয়ে ৯ বছর পর্যন্ত স্থগিত থাকে। এই সময়ে উদ্যানের বহু ঐতিহাসিক গাছ ও স্মারক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়, ফলে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংস্থা উদ্যান সংরক্ষণের দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে উদ্যানের মূল কাঠামো সংরক্ষণ করে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়।

উদ্যোগের সময় প্রধান মন্ত্রী ও পরিবেশ মন্ত্রী উভয়ই উপস্থিত ছিলেন এবং উদ্যানের পুনরুজ্জীবনের জন্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর মতে, ওসমানী উদ্যানের পুনরায় উন্মুক্তি শহরের সবুজায়ন লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্থানীয় বাসিন্দা রাহিমুল হক বলেন, “দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এখন আমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে খেলতে পারবে।” অন্যদিকে, পর্যটন সংস্থা প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন যে, টিকিটের সাশ্রয়ী মূল্য ও আধুনিক সুবিধা শহরের পর্যটন আকর্ষণ বাড়াবে। তবে কিছু পরিবেশবিদ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অতিরিক্ত ভিড় ও বাণিজ্যিকীকরণ উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই সকল মতামতকে বিবেচনা করে, প্রশাসন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

প্রশাসন ইতিমধ্যে উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে এবং মাসিক ভিত্তিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গাছের রোপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, উদ্যানের প্রবেশদ্বার ও পার্কিং এলাকায় ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হবে, যা টিকিটের স্বচ্ছতা ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে, ওসমানী উদ্যানকে শহরের প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিবেশ শিক্ষা কর্মশালা এবং স্বাস্থ্যবিধি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে, উদ্যানটি শুধুমাত্র বিশ্রামের স্থান নয়, বরং শহরের সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের মডেল হিসেবে কাজ করবে।