মক্কা শহরে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড বা স্বীকৃত সীমান্ত হুমকির মুখে পড়লে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করা হবে, তবে চুক্তি থেকে দশ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই একতরফা বেরিয়ে যাবে না। এই বিধানটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নতুন এক রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

চুক্তিটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রধান দেশ ও মক্কা শহরের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হয়। পূর্বে একই ধরনের চুক্তিতে প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, দশ বছরের বাধ্যতামূলক সময়সীমা প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলে সীমানা বিরোধ, সন্ত্রাসী হামলা এবং ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।

চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সরকারী মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই ধারা সম্পর্কে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। কিছু বিশ্লেষক এটিকে স্বার্থপরতা ও স্বায়ত্তশাসনের সীমাবদ্ধতা হিসেবে সমালোচনা করেন, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা এটিকে “অস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ” হিসেবে প্রশংসা করেন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু নাগরিক এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যরা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জড়িততা ও অর্থনৈতিক বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুক্তির কার্যকরী তত্ত্বাবধানের জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে এবং দশ বছরের সময়সীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বৈঠক ও পর্যালোচনা সেশন চালু করবে। ভবিষ্যতে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া সহজতর করতে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে সংশোধনী আনা হতে পারে, তবে তা এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং চুক্তির শর্তাবলীকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।