২০১৭ সালে ভারতীয় দলকে প্রতিনিধিত্বকারী লেগ স্পিনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর থেকে শারীরিক চোটের কারণে মাঠে ফিরে আসতে পারেনি। তৎকালীন দলনেতা বিরাট কোহলি, স্পিনারকে সম্পূর্ণ সুস্থ হলে আবার দলে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। তবে চোটের পর থেকে স্পিনারকে কোনো ফোন কল বা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের খবর পাওয়া যায়নি। এই অবহেলা ক্রিকেট প্রেমিক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বিস্তৃত উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং দেশের খেলাধুলা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্পিনার তার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমেও দলের থেকে কোনো আপডেটের অভাব উল্লেখ করেছেন।

স্পিনারটি ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মপ্রকাশ করে দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তার দ্রুত ঘূর্ণায়মান ডেলিভারি ও পরিবর্তনশীল গতি তাকে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটে সফল করে তুলেছিল। ২০১৭ সালের শেষ ম্যাচে তিনি ধারাবাহিকভাবে দুইটি উইকেট নেন, তবে পরবর্তী সিরিজে ঘাঁটিতে আঘাতের কারণে তার পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা দল দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সমর্থন ও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণে অস্পষ্টতা রয়ে যায়। চোটের মূল কারণ ছিল ঘাঁটির অপ্রতুল রক্ষণাবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেশনের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ, যা পরে মেডিকেল রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে।

কোহলি যখন এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন, “যদি তিনি সম্পূর্ণ ফিট হন, তবে আমি তাকে দলে ফিরিয়ে দেবার পূর্ণ ইচ্ছা রাখি।” স্পিনার নিজে জানিয়েছেন, “চোটের পর থেকে আমি শারীরিকভাবে সুস্থ হতে কঠোর পরিশ্রম করছি, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাইনি।” দলের কোচিং স্টাফও স্পিনারের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলছেন। ভক্তদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোচনা চলছে, অনেকেই স্পিনারের অধিকার রক্ষার জন্য দাবি তুলেছেন। অধিকন্তু, ক্রিকেট বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, স্পিনারকে দলে না রাখলে দলের স্পিনিং বিকল্প কমে যায় এবং টেস্ট সিরিজে ঘূর্ণায়মান বলের অভাব দেখা দিতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন কমিটি এই পরিস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সভা চালিয়ে আসছে এবং স্পিনারের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ফিট হতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতে দলনেতা ও কোচিং স্টাফের স্পষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা এবং নির্বাচনী নীতি পুনর্গঠন করা জরুরি বলে বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী মানদণ্ডে স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের প্রস্তাবও উপস্থাপিত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে স্পিনারের ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের স্পিনার পুলের শক্তি পুনরুদ্ধার হবে।