গত সপ্তাহের শেষের দিকে ঢাকা শহরের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পুরনো নালা‑বিলাসী এলাকায় এক অনিয়ন্ত্রিত ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, নোয়নের নামে পরিচিত এক গোষ্ঠীর কিছু অনুসারী স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে নালার সংস্কারকাজে নিযুক্ত করে, প্রতিজনকে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে অর্থ আদায় করেছে। এই কাজটি স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে না হয়ে, জোরপূর্বক ও হুমকির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে, ফলে বহু পরিবার আর্থিক চাপে পড়েছে। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশ ও পৌরসভার নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের সূচনা হয়।
নালার সংস্কারকাজের ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দশকে শহরের বর্জ্য নিষ্পত্তি ও পানির সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি চালু করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ও কর্মী সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে কিছু গোষ্ঠী স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনিয়মিত পদ্ধতি অবলম্বন করে। নোয়নের অনুসারীরা পূর্বে কিছু সামাজিক কর্মে অংশগ্রহণের দাবি করে পরিচিত হলেও, এইবারের ঘটনা তাদের স্বার্থপর আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবী সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। একাধিক পরিবার অভিযোগ করে যে, তাদের সন্তানদের স্কুলের ফি ও গৃহস্থালির মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পারার কারণে এই জবরদস্তি কাজের মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও ধর্মীয় নেতারা নোয়নের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা প্রকাশ করে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। এছাড়া, মানবাধিকার সংস্থা এই ধরনের জোরপূর্বক শ্রমকে মানবিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়।
অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, ঢাকা শহর পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত দল গঠন করে, জোরপূর্বক শ্রমের শিকারদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। পৌরসভার উন্নয়ন বিভাগও নালার সংস্কারকাজের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করে, স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কাজের জন্য যথাযথ তহবিল ও প্রণোদনা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে, অননুমোদিত জোরপূর্বক শ্রমের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।