গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার আজ জাতীয় টেলিভিশন ও প্রধান সংবাদমাধ্যমে এক ঐতিহাসিক নীতি ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় শ্রেণিভেদ বাদ দিয়ে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই ঘোষণার মূল বিষয় হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কল্যাণের সকল সেক্টরে বৈষম্যহীন নীতি প্রয়োগ করা, যাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে সমানভাবে স্বীকৃতি ও সেবা প্রদান করা যায়। সরকার এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করেছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে।
শ্রেণিভেদ ও বৈষম্যের সমস্যা বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত। পূর্বে ১৯৯০-এর দশকে সমতা সংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবায়নে কাঠামোগত ঘাটতি ও দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা রয়ে গিয়েছিল। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার ও সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার প্রাপ্তি প্রায়শই সামাজিক অবস্থান ও পারিবারিক পটভূমির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই বৈষম্যজনিত অসাম্যতা দেশের মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে আনা হয়েছে। অতএব, সমতা ভিত্তিক নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের সামাজিক দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নীতির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, “শ্রেণিভেদকে শেষ করে সমতা ও ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তোলা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) এর সভাপতি ড. রুবি আহমেদ উল্লেখ করেন, “এই পদক্ষেপটি দেশের সামাজিক সংহতি ও আন্তর্জাতিক সুনাম উভয়ের জন্যই গৌরবময়।” তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শ্রমিক সংগঠন এই নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত তহবিল ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে তা কেবল কাগজে নথি হয়ে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; বহু শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সমান সুযোগের আশায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক মিডিয়ায় সমর্থনসূচক পোস্ট শেয়ার করছেন।
সরকার ইতিমধ্যে নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় তদারকি কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্য হিসেবে মন্ত্রণালয় প্রধান, মানবাধিকার কমিশন ও সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল সরকারি সংস্থায় বৈষম্যবিরোধী মানদণ্ড প্রণয়ন, কর্মচারী প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে। তদুপরি, বৈষম্যজনিত অভিযোগের জন্য একটি স্বতন্ত্র হটলাইন ও অনলাইন পোর্টাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে নাগরিকরা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা পেতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে সরকার এই নীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করে, আন্তর্জাতিক সমতা সূচকে দেশের র্যাঙ্কিং উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।