কলকাতার চোরবাগান পূজামণ্ডপে আজ বিকেলে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ১৮ জন নারী ও শিশুসহ নিহত ও ৩৭ জন আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে পূজার সময় যখন ভীড় জমে ছিল। ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ি হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে এবং ভেতরের লোকজনকে পা দিয়ে চেপে ফেলে। দুর্ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়, কিন্তু অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেতে পারেননি। ঘটনাস্থলটি এখন পুলিশ ও জরুরি সেবার দ্বারা সুরক্ষিত, এবং মৃতদেহের পরিচয় নির্ণয় চলছে।

চোরবাগান পূজামণ্ডপে প্রতি বছর পূজার সময় বিপুল ভিড় জমা হয়। এই এলাকায় আগে কয়েকবার ভিড়জনিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম প্রাণহানি ঘটিয়েছে। পূজার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে গেট, বেড়া ও সুরক্ষা কর্মী স্থাপন করা হয়, কিন্তু আজকের ঘটনায় দেখা গেছে এই ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না। পূজার আগের দিনগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়ক বন্ধ করা হয়েছিল, তবু ভিড়ের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা যায়।

ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পূজার প্রধান ও ধর্মীয় নেতারা শোক প্রকাশ করে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সমাজের সাধারণ মানুষ ঘটনাটির প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির আহ্বান জানায়। সামাজিক মিডিয়ায় ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ ঘটনাটির কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। তারা গাড়ির চালক, ভিড়ের প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে। ভবিষ্যতে পূজার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণে উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা, সড়ক বন্ধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ি চালকদের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।