সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্বরিত পরিদর্শন শুরু হয়, এবং বেলা ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় তিনি মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে সরকারি অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এই পরিদর্শনটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নাগরিক সেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং জনসাধারণের নজরে তার দ্রুত পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্রমণের পটভূমি হল গত কয়েক মাসে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে অপরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে জনমত গঠিত হওয়া। পূর্বে শহর পরিষদ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় একাধিক পরিষ্কার‑সফাই প্রোগ্রাম চালু করলেও, বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং ত্রুটিপূর্ণ তত্ত্বাবধানের অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষত আজিমপুরের পুরনো বাসস্থানগুলোতে বর্জ্য জমা এবং রাস্তার ধুলো‑ধূসরতা দীর্ঘদিনের সমস্যারূপে রয়ে গেছে, যা নাগরিকদের অসন্তোষের মূল কারণ। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি 현장‑পরিদর্শন করে সমস্যার মূল চিহ্নিত করা এবং তাৎক্ষণিক সমাধান নির্দেশ করা প্রত্যাশা করা হয়।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অপরিচ্ছন্নতা দূরীকরণে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান। আজিমপুরে উপস্থিত স্থানীয় মেয়র ও পৌরসভার প্রধান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত পরিষ্কার‑সফাই কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। তবে কিছু বাসিন্দা জানান, পূর্বে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গিয়েছে, ফলে আজিমপুরের গলি-গলিতে এখনও বর্জ্য জমা রয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে এই পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, সরকারী দায়িত্বশীলতা পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার আশায়।

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পরিষদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে আজিমপুরসহ অন্যান্য সমস্যাযুক্ত এলাকায় ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিষ্কার‑সফাই নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ মন্ত্রণালয় নতুন বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার নীতি প্রণয়ন করে শহুরে পরিষেবার মানোন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ত্বরিত পরিদর্শনকে নিয়মিত করে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী নগর পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্য সরকার গ্রহণ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শহরের পরিবেশগত স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত করবে।