আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সাধারণত সরকারি ও আধা‑সরকারি অফিস বন্ধ থাকে, তবে দুর্গাপূজা ছুটির পূর্বে সব অফিস কার্যকরী রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারীদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সরকারি সেবা প্রদানেও কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। বিশেষ করে কর, রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট ইত্যাদি সেবা কেন্দ্রের জন্য এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নাগরিকদের আবেদনপত্র জমা দিতে একাধিক দিন অপেক্ষা করতে হয় না। সরকার এই পদক্ষেপকে “অবিরাম সেবা” হিসেবে তুলে ধরেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে।
দুর্গাপূজা ছুটির ব্যবস্থা সাধারণত ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়, যা দেশের বহু অঞ্চলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশাল জনসমাগমের সৃষ্টি করে। তবে ঐতিহাসিকভাবে সরকারী ছুটির আগে সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে কাজের চাপ বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে কর ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত দফতরগুলোতে। অতএব, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে কিছু বিভাগে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ বা অতিরিক্ত সময় কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু এই বছর সরকার সম্পূর্ণ অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ছুটির পরের দিনগুলোতে সেবা ব্যাহত না হয়।
বিভিন্ন সংস্থার প্রধান কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, “অফিস খোলা থাকলে নাগরিকদের জরুরি সেবা দ্রুত পাওয়া যাবে এবং কর্মচারীদের কাজের চাপ সমানভাবে ভাগ হবে।” তবে কিছু কর্মী ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত কাজের চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে এবং সমন্বিত বিশ্রাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। সাধারণ জনগণও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে; কেউ কেউ দ্রুত সেবা পেতে আনন্দ প্রকাশ করেছে, আবার কেউ কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সরকারী দপ্তরগুলো ইতিমধ্যে অতিরিক্ত কর্মী শিফটের ব্যবস্থা করে এবং জরুরি সেবার জন্য বিশেষ টেলিফোন লাইন চালু করেছে। ভবিষ্যতে ছুটির দিনগুলোতে সেবা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে বলে পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া, শ্রমিক কল্যাণের দিক থেকে অতিরিক্ত কাজের জন্য উপযুক্ত ভাতা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি সেবার গুণগত মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।