সাম্প্রতিক জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের শিশুরা প্রয়োজনীয় সব টিকা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণের হার গত ত্রৈমাসিকে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর মধ্যে মাত্র ৭২ শতাংশই সম্পূর্ণ টিকা শিডিউল অনুসরণ করেছে, যেখানে দুই বছর আগে এই হার ছিল ৮৪ শতাংশ। এই হ্রাসের ফলে টিকাদান ভিত্তিক রোগের পুনরুৎপাদন ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ দলগুলোকে নয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল; একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় দল এবং বাকি আটটি দল দেশব্যাপী আটটি বিভাগে কাজ করেছে। কেন্দ্রীয় দল নীতি নির্ধারণ, তহবিল বরাদ্দ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্বে ছিল, আর আঞ্চলিক দলগুলো স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্কুল ও কমিউনিটি সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরে টিকাদান ক্যাম্প পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা, টিকাদান কেন্দ্রের সরবরাহ ঘাটতি এবং কিছু অঞ্চলে ভ্যাকসিনের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে টিকাদান হার হ্রাস পেয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. রশিদ হক জানান, “টিকাদান হার হ্রাস একটি গুরুতর সতর্কবার্তা, যা আমাদের নীতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি নির্দেশ করে।” তদুপরি, জাতীয় টিকাদান তত্ত্বাবধান কমিটির প্রধান ডা. সুমাইয়া বেগম উল্লেখ করেন, “আঞ্চলিক দলগুলো সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছু বাধা ও তথ্যের অপ্রতুলতা চিহ্নিত করেছে, যা দ্রুত সমাধান করা দরকার।” সাধারণ জনগণের মধ্যে টিকাদান সংক্রান্ত তথ্যের অভাব এবং মিথ্যা তথ্যের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে; বহু অভিভাবক টিকাদান সময়সূচি মিস করার কারণ হিসেবে কাজের চাপ ও পরিবহন সমস্যাকে উল্লেখ করেছেন।

অধিকাংশ আঞ্চলিক স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় দল টিকাদান কেন্দ্রের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং টিকাদান ক্যাম্পের সময়সূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, মোবাইল স্বাস্থ্য ইউনিট চালু করে দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে টিকাদান সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ টিকাদান ট্র্যাকিং সিস্টেমকে ডিজিটাল করে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো অঞ্চলে হ্রাস দ্রুত শনাক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে টিকাদান সংক্রান্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুলে টিকাদান বাধ্যতামূলক করা এবং টিকাদান সেবা সহজলভ্য করার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা পরিকল্পনা করা হয়েছে।