রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গাড়ি চালিয়ে রিকশা চালক মো. শাহজাহানকে ধাক্কা মারার ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোড ১ নম্বর রাস্তায়, যেখানে সন্ধ্যাবেলা গাড়ি চলাচল বেড়ে গিয়েছিল। গাড়ির গতি দ্রুত ছিল এবং রিকশা চালককে অপ্রত্যাশিতভাবে টাকিয়ে দেয়া হয়। গাড়ি থামার সময় রিকশা চালকের মাথায় আঘাত লেগে তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন এক নারী ও তার দশ বছর বয়সী মেয়ে, যারা গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি সেবাকে জানানো হয় এবং ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়।

এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তায় গাড়ি ও রিকশার পারস্পরিক চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ সিগন্যাল ও ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিতি কম থাকায় প্রায়শই অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ ঘটে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদের গাড়ি চালানোর অভ্যাস ও রিকশা চালকদের অপ্রতুল প্রশিক্ষণ এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অতিরিক্ত গাড়ি পার্কিং, অপর্যাপ্ত রাস্তার চওড়া এবং অযথা গতি সীমা অমান্য করা এই দুর্ঘটনার পটভূমি গঠন করেছে। স্থানীয় নাগরিকদের মতে, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং রিকশা চালকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীরা গাড়ি চালকের অযৌক্তিক গতি ও রিকশা চালকের অপ্রস্তুত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। মৃতের পরিবার রিকশা চালকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে গাড়ি চালকের কাছ থেকে দায়িত্ব স্বীকারের দাবি জানিয়েছে। গাড়ি চালক, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র, তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশকে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার আইনজীবী পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে ট্রাফিক নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রিকশা চালকের পরিবার সরকারী সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে দাবি তুলেছে, যা সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং গাড়ি চালকের গতি রেকর্ড, রিকশা চালকের লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংগ্রহ করছে। ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, একই রকম দুর্ঘটনা রোধে গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং রিকশা চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসের আশেপাশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত সাইনেজ ও পেডেস্ট্রিয়ান ব্রিজ স্থাপনের পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।