ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসএসসি (ডেঙ্গু সাপোর্ট সার্ভিস সেন্টার) প্রশাসক ড. রাহুল চৌধুরী গতকাল জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে জানিয়েছেন, রোগের বিস্তার রোধে জনগণকে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই মৌসুমে রোগীর সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় দুই গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দ্রুত সনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে মারাত্মক পরিণতি ঘটতে পারে। এ মুহূর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি বাসিন্দা মশা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সম্পর্কে সতর্কতা মেনে চলতে পারে।

ডেঙ্গু রোগের পুনরাবৃত্তি মূলত বৃষ্টির মৌসুমে সৃষ্ট জলাশয় ও অপ্রতিষ্ঠিত ডাম্পিং সাইটে এডিস এডিস মশার বংশবৃদ্ধি থেকে উদ্ভূত হয়। গত পাঁচ বছরে গড়ে প্রতি বছর ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে, তবে ২০২৩ সালের শেষের দিকে রেকর্ডেড সংখ্যা ৩৫,০০০ অতিক্রম করেছে। বিশেষত গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে মশার বিকাশের হার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্তভাবে, নগরায়নের দ্রুতগতি ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মশার প্রজননস্থলকে বাড়িয়ে তুলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, "প্রতিটি পরিবারে মশার জাল ব্যবহার, গৃহের আশেপাশে স্থির জলের পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং পোকামাকড়ের প্রতিরোধমূলক স্প্রে করা জরুরি।" স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা ও এনজিওগুলোও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করেছে; চট্টগ্রাম জেলার এক গ্রামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ১,২০০ জন বাসিন্দা অংশগ্রহণ করে মশা নিয়ন্ত্রণের সঠিক পদ্ধতি শিখেছেন। তবে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভর্তি বেডের ঘাটতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব দেখা দিচ্ছে। রোগীর পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে ফেলে দিচ্ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

অধিকাংশ জেলা স্বাস্থ্য অফিস এখনই তীব্র ফগিং অভিযান চালু করেছে এবং মশা লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বায়ো-লার্ভিসার ব্যবহার শুরু করেছে। ডিএসএসসি প্রশাসক ড. রাহুল চৌধুরী আগামী মাসে দেশব্যাপী ১০,০০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু রোগের ত্বরিত সনাক্তকরণের জন্য নতুন র‍্যাপিড টেস্ট কিটের সরবরাহ বাড়াবে এবং রোগীর তথ্য রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ডেঙ্গু সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবিষ্যৎ মৌসুমে রোগের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গড়ে তোলার লক্ষ্য স্থির করেছে।