বিশ্ব খাদ্য প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী ত্রৈমাসিকের তুলনায় এই সংখ্যা ২৮ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ ভাগেরও বেশি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিবেদনটি দেশের কৃষি উৎপাদন, বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্যোগের প্রভাবকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এই পরিস্থিতি দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক বন্যা, সাইক্লোন এবং খরা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক পণ্যদ্রব্যের উত্থান এবং দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহস্থালী ব্যয়ের অনুপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্তভাবে, কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতিতে ঘটায়, যা কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ অফিসের পরিচালক শ্রীমতি রেহানা হক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “এই ত্রৈমাসিকের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা অবিলম্বে নীতি সমন্বয় ও ত্বরিত সহায়তা প্রয়োজন।” মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও পরিকল্পনা বিভাগও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত রেশন বিতরণ ও নগদ সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় এনজিওগুলোও তৎক্ষণাৎ খাবার বিতরণ ও পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মূল্যের উদ্বেগ বাড়ছে এবং বহু পরিবার অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে খাবার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনার অধীনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় মৌসুমী বীজ ও সার সরবরাহে ত্বরান্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে, আর অর্থ মন্ত্রণালয় দারিদ্র্য বিমোচন তহবিলের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিটি বাজারে চাল, ভাত, তেল ইত্যাদি মূল খাদ্যদ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তত্ত্বাবধান বাড়াবে। ডব্লিউএফপি ও জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক দান ও তহবিল সংগ্রহের কাজও ত্বরান্বিত করা হবে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো যদি সময়মতো কার্যকর হয়, তবে ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে ঝুঁকির স্তর কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।