বৃহস্পতিবার, প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান জাপান সফরের প্রস্তুতি শেষ করে ঢাকা থেকে রওনা হলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং কৌশলগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব শ্রী ড. মোহাম্মদ জাফরুল হক আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই সফরে জাপানের সর্বোচ্চ স্তরের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে দু'দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সফরের সময় নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দীর্ঘকালীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব চুক্তি থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে; গত অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি ১.২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, একই সঙ্গে জাপানীয় সরাসরি বিনিয়োগ ৩৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তদুপরি, পূর্বে গৃহীত 'স্মার্ট সিটি' প্রকল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে, বর্তমান সফরকে কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, নিরাপত্তা ও সমুদ্র নীতি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং অর্থ মন্ত্রী শিনো হোশি সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়গুলোকে 'দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়' এবং 'টেকসই উন্নয়ন' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানীয় দপ্তরের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য, বিশেষত পোশাক ও জৈবিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশের ব্যবসা সমিতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ও সফরের প্রত্যাশা প্রকাশ করে, জাপানীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও সফরের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়; বিশেষ করে যুবক ও উদ্যোক্তারা জাপানের উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগের দিকে নজর দিচ্ছেন।
সরকার ইতিমধ্যে সফরের প্রস্তুতিতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে, যার দায়িত্বে রয়েছে চুক্তি খসড়া প্রস্তুত করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং মিডিয়া কভারেজ সমন্বয় করা। প্রধানমন্ত্রী রওনা হওয়ার পূর্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে সফরের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। জাপান সফরের পর, উভয় দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় একসাথে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করবে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা নির্ধারিত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে, এই উদ্যোগকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।