২১ ও ২২ অক্টোবর রাতের দিকে বাংলাদেশের আকাশে এক বিরল উল্কাবৃষ্টির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে এই উল্কাবৃষ্টি হ্যালি ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশের সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথের সংযোগের ফলে সৃষ্ট, যার পিক সময় রাতের ১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত থাকবে। উল্কাগুলি উচ্চ গতিতে প্রবেশ করে বায়ুমণ্ডলে জ্বলে ওঠে, যা রাত্রিকালীন আকাশকে ঝলমলে রঙে রাঙিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উল্কাবৃষ্টি পূর্বের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল এবং অধিক সংখ্যক উল্কা দেখা যাবে, ফলে রাতের আকাশে এক অনন্য দৃশ্যপট গড়ে উঠবে।

উল্কাবৃষ্টি হল মহাকাশের ধূমকেতু ও গ্রহাণু ধ্বংসাবশেষের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ফল। হ্যালি ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর পরপর পৃথিবীর কাছাকাছি আসে এবং তার অবশিষ্টাংশ থেকে বহু উল্কা উৎপন্ন হয়। গত দশকে বাংলাদেশে কয়েকটি উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তবে হ্যালি ধূমকেতুর সঙ্গে যুক্ত এই উল্কাবৃষ্টি প্রথমবারের মতো এত বিশাল মাত্রায় দেখা যাচ্ছে। পূর্বে ১৯৯৯ ও ২০০১ সালে দেখা উল্কাবৃষ্টির তুলনায় এইবারের উল্কাগুলির উজ্জ্বলতা ও সংখ্যা দুগুণের বেশি বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

বৈজ্ঞানিক সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদরা উল্কাবৃষ্টির পূর্বাভাসের পর জনসাধারণকে পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের উচ্চভূমি এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং নাগরিকদের নিরাপদে আকাশ দেখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে উল্কাবৃষ্টির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার জন্য ট্যাগ চালু করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্কাবৃষ্টি সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। পর্যটন সংস্থা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে।

প্রশাসন উল্কাবৃষ্টির সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের প্রধান পার্ক ও উঁচু স্থানগুলোতে আলো বন্ধ রাখবে এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ দূর করবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর রাত্রিকালীন মেঘাচ্ছন্নতা ও বায়ু দূষণ পর্যবেক্ষণ করে উল্কাবৃষ্টির দৃশ্যমানতা সম্পর্কে বাস্তব‑সময় তথ্য প্রদান করবে। বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই উল্কাবৃষ্টি ভবিষ্যতে হ্যালি ধূমকেতুর পরবর্তী পরিক্রমা সম্পর্কে নতুন গবেষণার দিকনির্দেশনা দেবে এবং দেশের জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। সরকার এই ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।