ঢাকার এক পুরনো পাড়ার ৬ জন বড় ছেলের মা, রোজা হক, পাকা বাড়ি নির্মাণের পরেও নিজের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থান না পেয়ে দুঃখজনক পরিস্থিতিতে আটকে আছেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোজা হক ২০০৯ সালে নিজের সঞ্চয় ও ঋণ নিয়ে দুই তলা পাকা বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করেন, তবে বাড়ির অভ্যন্তরীণ নকশা ও কক্ষের সংখ্যা তার ছয়জন সন্তান ও বৃদ্ধ পিতামাতার জন্য যথেষ্ট নয়। এই বাস্তবতা তাকে শৈশবের বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের কাছেও ঘরে না বসে, অস্থায়ী শিবিরে থাকা বাধ্য করে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন তুলেছে।

বাড়ি নির্মাণের পেছনে রোজা হকের দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন ছিল পরিবারকে একসাথে এক ছাদের নিচে রাখার। তবে অর্থনৈতিক সংকট, ঋণ সুদের বৃদ্ধি এবং নির্মাণের সময় অতিরিক্ত খরচের কারণে তিনি পরিকল্পিত কক্ষের সংখ্যা কমিয়ে দেন। তদুপরি, তার ছেলেরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে কাজ করে, ফলে বাড়ির ব্যবহারিক চাহিদা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। অতীতের এই আর্থিক ও পরিকল্পনাগত ত্রুটি আজ তার পরিবারের বাসস্থানের সংকটের মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

বিষয়টি প্রকাশের পর রোজা হক স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠন ও নাগরিক অধিকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্নিগ্ধ ঘর চেয়েছি, কিন্তু বাস্তবে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি কোনো সাহায্য চাই না, তবে সরকার ও সমাজের দিক থেকে কিছু সহায়তা পেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।” স্থানীয় মেয়র ও জেলা প্রশাসকের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এধরনের সামাজিক সমস্যার সমাধানে নগর পরিকল্পনা ও আবাসন নীতি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। নাগরিকদের কাছ থেকে সহানুভূতি ও সমর্থনও পাওয়া গেছে, যেখানে বহু মানুষ রোজা হকের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অধিকর্তারা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নগর বাসস্থানের নীতি পুনঃমূল্যায়ন ও দুর্বল পরিবারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ঢাকা মহানগর পরিকল্পনা অধিদপ্তর আগামী মাসে একটি জরুরি সভা আয়োজন করবে, যেখানে নিম্ন-আয় গোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্পের খসড়া উপস্থাপন করা হবে। তদুপরি, সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে সরকারী দিক থেকে ভাতা, ঋণমুক্তি ও পুনর্নির্মাণ সহায়তা প্রদান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। রোজা হকের কেসটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্বের আলোকে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার সমাধানে নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।