মুম্বাই শহরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষই শক্তি সেক্টরে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে আমিরাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
এই বৈঠকের পটভূমিতে রয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও গভীর হয়েছে। ভারত তার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, আর যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। তদুপরি, আমিরাতের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
দুটি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে একে অপরের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন যে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি প্রযুক্তি বিনিময়কে শক্তিশালী করবে, আর রুবিও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহে আরও আগ্রহী। জনগণের মধ্যে এই আলোচনার ফলে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে, যা জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে। ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে আমিরাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।