রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক বাল্বের মানসম্মত না হওয়া এবং এতে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে গুজব ও বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশই মানহীন ও পুনর্ব্যবহৃত উপাদানে তৈরি। এই ধরনের বাল্ব ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লেগে যেতে পারে, যা সম্পত্তি ও প্রাণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লে এই মানহীন সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। সরকারি নিয়মকানুন অমান্য করে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশি কারখানায় মানহীন উপাদানে তৈরি বাল্ব সহজেই বাজারে চলে আসছে। এছাড়াও, পুরনো ও নষ্ট হয়ে যাওয়া বাল্বের পুনর্ব্যবহার করে নতুন বাল্ব হিসেবে বিক্রি করার প্রবণতা বেড়েছে। এই অবৈধ বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে বিশাল আর্থিক লাভের আশা, যা দেশের বৈধ শিল্পকারখানার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং রাজস্ব হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা সাধারণত দামের ওপর ভিত্তি করেই বাল্ব কেনা, মানের বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এই মানহীন পণ্য কিনে নেন, যদিও তারা এর ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মানহীন বাল্বের কারণে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ লোড বাড়ছে এবং ট্রান্সফরমারের ক্ষতি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, শর্ট সার্কিটের কারণে ঘরোয়া আগুনের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে, যা মানুষের জীবন ঝুঁকিয়ে দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান দেওয়া হয়েছে, মানহীন বাল্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ টিম গঠন করে বাজার পরিদর্শন শুরু করেছে। মানহীন পণ্য পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরিমানা আদায় করা হবে। ভবিষ্যতে ক্রেতাদের সচেতন করার জন্য মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন চালানো এবং মানসম্মত পণ্য চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও, আমদানি প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে যাতে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং মানসম্মত পণ্য কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।