বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো দান বা হেবা। তবে এ ধরনের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কর প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। একদিকে কেউ মনে করেন, হেবা করলেই অবশ্যই কর দিতে হবে, আবার অন্যদিকে অনেকের ধারণা যে পারিবারিক দান সম্পূর্ণ করমুক্ত। এই বিভ্রান্তি দূর করতে কর অধিদপ্তরের নীতিমালা এবং আয়কর আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় দাতা এবং গ্রহীতা উভয়েরই করদাতা হিসেবে আইনি দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দেশের কর ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার জটিলতা এবং জনসাধারণের মধ্যে কর সচেতনতার অভাব। বাংলাদেশ আয়কর আইন অনুযায়ী, যেকোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতা এবং গ্রহীতা উভয়েরই আয়কর ঘোষণায় এটি উল্লেখ করতে হয়। দাতার ক্ষেত্রে, যদি তিনি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে জমি কিনে থাকেন এবং পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যকে দান করেন, তবে এটি তার আয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং আয়কর প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, গ্রহীতার ক্ষেত্রে, যখন তিনি দান হিসেবে জমি বা সম্পত্তি পান, তখন তা তার আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হয় না, তবে সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় প্রযোজ্য স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি বোঝা না গেলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর পরামর্শকদের মতে, দান বা হেবার ক্ষেত্রে কর প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে ভবিষ্যতে জরিমানা বা কর পরিশোধের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে দাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই কর ঘোষণায় ভুল তথ্য প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে কর অধিদপ্তরের তদন্তের সময় সমস্যার সৃষ্টি করে। জনজীবনে এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্পত্তি হস্তান্তর একটি বড় আর্থিক লেনদেন এবং এতে কর প্রক্রিয়া সঠিক না হলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, দান বা হেবার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সাথে পরামর্শ করবেন এবং সব ধরনের কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করবেন।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে, কর অধিদপ্তর নিয়মিত সচেতনতা মূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে এবং অনলাইনে বিভিন্ন গাইডলাইন প্রকাশ করছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, কর ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ এবং সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করদাতাদের জন্য অনলাইন পোর্টাল মাধ্যমে কর ঘোষণা দেওয়া এবং কর পরিশোধের সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে কর সচেতনতা বাড়বে এবং দান বা হেবার ক্ষেত্রে কর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। এছাড়া, কর অধিদপ্তর নিয়মিত নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে করদাতাদের অবহিত করছে, যাতে তারা আইনি দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যায় পড়ে না।