দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ ঢাকের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। এই হাটের ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো, যা স্থানীয় জনজীবনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও পূজা উপলক্ষে হাটে জমে উঠেছে ব্যাপক ভিড়। ঢাকিদের হাতে তৈরি বিভিন্ন আকার ও আকৃতির ঢাক বিক্রি হচ্ছে দ্রুত গতিতে। স্থানীয় বাণিজ্যিক মহল জানিয়েছে, পূজার মৌসুমে ঢাকের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি, যা এই ঐতিহ্যবাহী হাটের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করে তুলছে।
কটিয়াদীর এই ঢাকের হাটের উৎপত্তি সম্পর্কে স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, শতাব্দী ধরে এখানে ঢাক তৈরি ও বিক্রির ঐতিহ্য বজায় আছে। পূর্বে ঢাক তৈরি ছিল একটি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ, যেখানে দক্ষ কারিগরদের হাতেই ঢাকের আকৃতি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। বর্তমানেও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে ঢাক তৈরির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পূজারিরা মণ্ডপের জন্য উন্নত মানের ঢাক চুক্তিবদ্ধ করতে হাটে আসেন, যা এই হাটের বিশেষত্ব। ঢাকের গুণগত মান ও শব্দমধুরতা বিবেচনা করে পূজা উদযাপনকারীরা এই হাট থেকেই ঢাক সংগ্রহের প্রবণতা দেখান।
ঢাকি ও পূজারিদের মধ্যে চুক্তির আলোচনা হাটে ব্যাপকভাবে চলছে। পূজারিরা মণ্ডপের প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকের আকার, সংখ্যা ও দাম নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই হাট শুধুমাত্র ঢাক বিক্রির স্থান নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি করে। ঢাকিদের দক্ষতা ও পূজারিদের আন্তরিকতা এই হাটের বিশেষ আকর্ষণ। জনজীবনে এই হাটের প্রভাব স্পষ্ট, কারণ এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে টিকিয়ে রাখে।
কর্তৃপক্ষ এই ঐতিহ্যবাহী হাটকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই হাটকে একটি সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ে। এই পদক্ষেপের ফলে ঢাকিদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা সংরক্ষণে সহায়ক হবে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাগত পাচ্ছে এবং এটি কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।