গতকাল ইসরায়েল রাজধানী জেরুজালেমের প্রধান রাস্তায় প্রায় দুই লাখেরও বেশি নাগরিক একত্রিত হয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ পরিচালনা করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করে ইহুদি-আরব সমন্বিত সরকার গঠনের দাবি জানায়। এই প্রতিবাদটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিগত বিভাজনের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তৎকালীন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনো মারাত্মক সংঘর্ষ রেকর্ড হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছিল।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। ১৯৯০ সালের অল্ডা চুক্তি থেকে শুরু করে বহু সরকারে ইহুদি ও আরব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গঠিত অস্থায়ী সরকারগুলোতে আরব পার্টির অংশগ্রহণ সীমিত ছিল, যা জাতিগত সমতা ও নীতি নির্ধারণে অসামঞ্জস্যের দিকে ইঙ্গিত করে। তাছাড়া, পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইহুদি-আরব সমন্বিত সরকার গঠনকে শান্তি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পটভূমিতে আজকের বিক্ষোভের তীব্রতা এবং তার দাবিগুলোকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক চাপে পরিণত করা যায়।
বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা মিডিয়ার সামনে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি জাহিদা আল-হাসান বলেন, ‘একটি সমন্বিত সরকার জাতিগত সমতা ও সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করার একমাত্র বাস্তব উপায়।’ অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠীর একজন বিশিষ্ট নেতা ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই দাবির প্রতি সমর্থনের মাত্রা উচ্চ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমন্বিত শাসনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। তবে কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠী এখনও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাঠামোর পক্ষে মত পোষণ করে, যা সমাজের মধ্যে মতবৈষম্যকে উন্মুক্ত করে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কোনো সরাসরি সংঘর্ষ না ঘটলেও, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সংকেত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘জাতিগত সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আমরা সকল প্রাসঙ্গিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব।’ তদুপরি, নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ইহুদি-আরব সমন্বিত সরকারের কাঠামো ও নীতিমালা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।