শরীফুল রাজকে আজ একটি আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে, যা তার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রকল্পে সময়সূচি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগের উপর ভিত্তি করে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বহুবার শিডিউল পরিবর্তন এবং বিলম্বের কারণে প্রযোজক ও সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন। এই ঘটনাটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রযোজকরা উল্লেখ করেছেন যে, শিডিউল মেনে চলা ছাড়া প্রকল্পের সফলতা অসম্ভব। নোটিশে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীফুল রাজের এই সমস্যাগুলি প্রথমবার নয়। গত বছর একই প্রকল্পে তিনি একাধিকবার শিডিউল পরিবর্তন করে প্রযোজকদের ক্ষতি করেছেন। প্রযোজকরা বলছেন, তিনি প্রায়শই অজুহাত দেখিয়ে শিডিউল মেনে চলতে ব্যর্থ হন। এই ধরনের আচরণ চলচ্চিত্র শিল্পে বিরল নয়, তবে এইবার প্রযোজকরা যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হয়ে আইনি পথ অবলম্বন করেছেন। এছাড়া, শিডিউল মেনে চলা না হলে চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখও পিছিয়ে যায়, যা বিতরণ চুক্তি ও বিজ্ঞাপনের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলে।

শরীফুল রাজ নিজে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন যে, শিডিউল পরিবর্তনের কারণ ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সমস্যা ও ব্যক্তিগত জরুরি পরিস্থিতি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি সবসময় প্রযোজকদের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন। প্রযোজকরা বলছেন, তিনি যদিও কিছু অজুহাত দিয়েছেন, তবু চুক্তি অনুযায়ী শিডিউল মেনে চলা বাধ্যতামূলক। দর্শক ও সমালোচকরা এই ঘটনায় বিভ্রান্ত হয়ে চলচ্চিত্রের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে বিতর্ক বাড়ছে, যেখানে অনেকেই শিল্পের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের উপর আলোকপাত করছেন।

প্রযোজক সংস্থা আইনি নোটিশের পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বলছে, শিডিউল লঙ্ঘনের ফলে প্রকল্পের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর চুক্তি শর্ত আরোপ করবে। সরকারী চলচ্চিত্র কমিশনও এই বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে নিয়ম-কানুন মেনে চলা নিশ্চিত করতে চায়। ভবিষ্যতে শিল্পে শিডিউল মেনে চলার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে।