ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্ট, কনেসেট, ১০ নভেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পার্লামেন্টের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সরকার গঠন নিয়ে চলমান আলোচনার মাঝেও, বেশ কয়েকটি আরব দল এবং নেটানিয়াহু বিরোধী দল স্পিকারকে হটাতে একমত প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, স্পিকার নির্বাচন পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়নের গতি এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; তাই প্রথম দিনেই এই বিষয়টি উত্থাপিত হলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে অথবা নতুন সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।

কনেসেটের ২৫তম সেশন গঠনের পূর্বে সরকার গঠনের আলোচনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। নেটানিয়াহু সরকার গঠনের জন্য বহু পার্টির সমর্থন সংগ্রহে ব্যস্ত, তবে আরব পার্টিগুলো ঐতিহাসিকভাবে নেটানিয়াহুর নীতিমালা ও নিরাপত্তা নীতির বিরোধিতা করে আসছে। স্পিকারের ভূমিকা হল পার্লামেন্টের অধিবেশন পরিচালনা, ভোটের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনসভা প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। পূর্বে নির্বাচিত স্পিকার, যিনি নেটানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তার পদত্যাগের পর থেকে এই পদে নতুন প্রার্থীর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। আরব দলগুলো স্পিকারের নির্বাচনকে সরকার গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে, যাতে তাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত নেতৃত্ব নিশ্চিত হয়।

নেটানিয়াহু সরকার গঠন দল তার পক্ষ থেকে স্পিকারের প্রার্থীর পক্ষে দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছে, যুক্তি দিয়ে যে বর্তমান সময়ে পার্লামেন্টের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও সমর্থনযোগ্য স্পিকারের প্রয়োজন। অন্যদিকে, আরব পার্টির নেতা মেহেদি গুলি এবং আলি হোসেনি স্পিকারের প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে, উল্লেখ করে যে স্পিকারের নির্বাচনকে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, ন্যায়বিচার ও জাতীয় সংহতির জন্য। জনমতেও বিভাজন দেখা যাচ্ছে; কিছু নাগরিক সরকার গঠনের দ্রুততা ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, অন্যদিকে অধিকাংশ আরব সম্প্রদায়ের মানুষ স্পিকারের ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনকে জাতীয় ঐক্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছেন। সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে উভয় দিকের মন্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।

কনেসেটের সিক্রেটারিয়েট এখন শপথ গ্রহণের পরপরই স্পিকারের জন্য ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ করছে। সরকার গঠন আলোচনার সমাপ্তি না হওয়া সত্ত্বেও, পার্লামেন্টের প্রথম সেশনে স্পিকারের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করে স্পিকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করবে। ভবিষ্যতে, যদি স্পিকারের নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং পার্লামেন্টের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আনবে; অন্যথায়, পুনরায় ভোট ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।