চলতি বছর দুই দফা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম যথাক্রমে চার ও পাঁচ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বাজারে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আজ সকালে প্রধান তেল উৎপাদনকারী তিনটি কোম্পানি তাদের বিক্রয় তালিকায় আবারও মূল্য বৃদ্ধি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যার ফলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেল সরবরাহের ঘাটতি, আমদানি খরচের বৃদ্ধি এবং গুদামজাত পণ্যের অভাবকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপটি তাত্ক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের গৃহস্থালির জন্য। সরকারী দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সয়াবিন তেল বাংলাদেশের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ত্রিশ শতাংশের বেশি অংশ দখল করে, তবে দেশীয় উৎপাদন সর্বদা চাহিদা পূরণে অক্ষম থাকে। অতএব, প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টন তেল আমদানি করা হয়, যার মূল্যের ওঠানামা সরাসরি বৈশ্বিক তেল বাজারের দামের সঙ্গে যুক্ত। গত বছর গ্লোবাল তেল মূল্যের উত্থান, লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রা অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিকৃত তেলের খরচ বেড়েছে। তদুপরি, গুদামজাত সয়াবিন তেলের স্টক কমে যাওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা মূল্য বৃদ্ধি করার ইচ্ছাকে ত্বরান্বিত করেছে।

কোম্পানিগুলোর মুখপাত্র রশিদ আহমেদ বলছেন, “ইনপুট কাঁচামালের মূল্য বাড়ার ফলে বিক্রয়মূল্য বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।” তবে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘ভোক্তা সমিতি’ এর সভাপতি সুমাইয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, “দাম বাড়লে গৃহস্থালির দৈনন্দিন ব্যয় বাড়বে, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।” অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ রশিদ বলেন, “দাম বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত করবে এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে।” বাজারে ইতিমধ্যে তেল ক্রেতারা বিকল্প তেল বা প্যাকেটের আকার ছোট করে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকারি দিক থেকে মন্ত্রণালয় অবিলম্বে তেল বাজার পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে তেল সরবরাহ ও দামের নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ গৃহস্থালির তেল ক্রয়ের জন্য বিশেষ ভর্তুকি পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এবং আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি, ন্যায়সঙ্গত মূল্য নির্ধারণের জন্য তেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই নীতিমালা কার্যকর হলে সরবরাহ ঘাটতি কমে দাম স্থিতিশীল হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প তেল উৎস বিকাশ করা জরুরি।