বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সমিতির প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের হোটেল রুমে একত্রিত হয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা দাবি করেন যে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়ায় বর্তমান ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) নিবন্ধনের বাধা তাদের ব্যবসা শুরু করার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধন না করেই সেবা প্রদান করতে অনুমোদন পেলে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পাবে এবং বিনিয়োগের প্রবাহ ত্বরান্বিত হবে। এ দাবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সূচনা করে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল ফরমালিটিসমূহ এবং অতিরিক্ত কর সংক্রান্ত শর্তাবলী ছোট ব্যবসার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক বাধা সৃষ্টি করে। ব্যাংক সমিতি এই বাধা দূরীকরণে সরকারী নীতি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে।

ভ্যাট আইন ১৯৯১ অনুসারে, সকল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের সেবার ওপর নির্দিষ্ট হারে কর সংগ্রহ ও নিবন্ধন করতে হয়। তবে ব্যাংকগুলোকে এই করের আওতায় আনা হলে, তাদের গ্রাহকসেবার খরচ বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহক, বিশেষত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে বাধ্য হয়। পূর্বে ২০১৯ সালে সরকার ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য কিছু কর সুবিধা প্রদান করলেও, ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যতিক্রম না করা হয়। ফলে, ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রাথমিকভাবে উচ্চ ফি এবং জটিল ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন, যা তাদের ব্যবসা শুরু করার আগেই আর্থিক চাপ তৈরি করে।

ব্যাংক সমিতির সভাপতি মি. রশিদুল হক উল্লেখ করেন, “ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করা আমাদের দায়িত্ব, এবং ভ্যাট নিবন্ধন বাধা দূর করা এই দায়িত্বের অংশ।” একই সঙ্গে, ক্ষুদ্র ব্যবসা সমিতির সভাপতি শ্রীমতি নূরজাহান বলেন, “এই নীতি পরিবর্তন না হলে আমাদের সদস্যরা আর্থিক সেবার প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করবে।” অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও এই দাবিকে স্বীকার করে জানান, “সরকারি নীতি গঠন প্রক্রিয়ায় সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত বিবেচনা করা হয়, এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।” জনসাধারণের মধ্যে এই আলোচনার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে শীঘ্রই নীতি পরিবর্তন তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় এই সপ্তাহে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিটিতে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতিনিধির পাশাপাশি কর বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কমিশনকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে সরকারকে উপস্থাপন করতে হবে। যদি প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এ ধরনের নীতি পরিবর্তন দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে এবং ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।