ঢাকা শহরের জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান আজ সন্ধ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের অধিকার‑নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব’ এবং দেশের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মানবাধিকার সংরক্ষণে আইনগত কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে উপস্থিত বিশাল জনসমাগম এবং মিডিয়ার তীব্র মনোযোগ এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গত দুই বছরে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জমি অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ, শহরে অপরাধের হার বৃদ্ধি এবং সাইবার হুমকির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। পূর্বে গৃহীত ‘মানবাধিকার সুরক্ষা আইন‑২০১৯’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা‑২০২১’ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় বহু নাগরিকের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকার পূর্বে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প চালু করলেও কাঠামোগত দুর্বলতা এবং তহবিলের ঘাটতি সেগুলিকে সীমিত ফলাফল দিয়েছে।

বিবিধ রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি এই উদ্যোগকে ‘দূরদর্শী পদক্ষেপ’ বলে স্বাগত জানিয়ে সরকারের পূর্বের অপ্রতুলতা তুলে ধরেছে এবং ত্বরিত আইনসভার মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাবের দাবি করেছে। মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ‘সামাজিক ন্যায়’ তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে যে অধিকার‑নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য, অন্যথায় নীতি ব্যর্থ হবে। সাধারণ মানুষও নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে আশাবাদী, তবে বাস্তবায়নের গতি ও তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার তৎক্ষণাৎ একটি উচ্চস্তরের ‘অধিকার‑নিরাপত্তা টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে, যার সদস্য হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার কমিশন এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত। টাস্কফোর্সের প্রথম মিটিংয়ে ২০২৪ সালের শেষের মধ্যে সংশোধিত আইন প্রণয়ন, তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।