গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর প্রতিবাদসূচক একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানটি ‘যে কবি জনতার’ শীর্ষক থিমের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। পরিবেশনায় কবি, গীতিকাব্য, নাটক ও নৃত্যসহ বিভিন্ন শৈলীর উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে কালি মাখানোর কাজটি শিল্পের মাধ্যমে দমন ও বর্ণবাদী মনোভাবের বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে পুনরায় উজ্জীবিত করে।
রবীন্দ্রনাথের কাজের প্রতি সম্মান ও সমালোচনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে। পূর্বে তার কবিতা ও সঙ্গীতের ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মতবিরোধের উদাহরণ রেকর্ডে আছে, তবে কোনো গোষ্ঠী তার চিত্রে শারীরিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেনি। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে কেবল একক শিল্পীর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে নয়, বরং সমগ্র সমাজে বিদ্যমান গৌরব ও বৈচিত্র্যের প্রতি আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এ ধরনের প্রতিবাদে শিল্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা, যা সামাজিক অস্থিরতা, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সাড়া দেয়, তা পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শ্রীমতি রেহানা বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম মানবতার সর্বজনীন বার্তা বহন করে; তার চিত্রে কালি মাখানো কোনো শিল্পী স্বাধীনতা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের অবমাননা’। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও দর্শকও একই রকম মত প্রকাশ করে, যেখানে অধিকাংশই এই কর্মকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে কিছু ধর্মীয় সংগঠন এই কর্মকে ‘অশোভন’ ও ‘ধর্মীয় সংবেদনশীলতা’ লঙ্ঘনকারী হিসেবে সমালোচনা করে, এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবি জানায়। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক মিডিয়ায় উভয় দিকের মতামত সমানভাবে প্রকাশ পায়।
অধিকাংশ নিরাপত্তা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছেন যে, কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রমাণ না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রকাশে সামাজিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃতি বিভাগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে, যা শিল্পী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংস্কৃতিক ইভেন্টের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে, পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং কোনো অশান্তি রোধে প্রস্তুত রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সংহতির মধ্যে সমন্বয় রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।