প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নিয়ে চলমান বিতর্ক দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারী নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে জনমত গঠনশীল অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মেয়াদসীমা না থাকলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং স্বৈরশাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞগণ মেয়াদসীমা প্রবর্তনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমানে কোনো স্পষ্ট মেয়াদসীমা নির্ধারিত নয়; প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সংসদের মেয়াদের সঙ্গে সমন্বিত এবং পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে অব্যাহত থাকে। তবে ১৯৯১ সালের সংবিধান সংশোধনী এবং ২০০৯ সালের সংশোধনায় সরকারী কাঠামোর স্থিতিশীলতা বাড়াতে কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যদিও মেয়াদসীমা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া সহ বহু গণতান্ত্রিক দেশেই মেয়াদসীমা প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার ঘূর্ণন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কারকে সমর্থন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
বিপক্ষের প্রধান নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মেয়াদসীমা প্রবর্তনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, মেয়াদসীমা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী শাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নীতি বিকৃতির দিকে নিয়ে যায়। নাগরিক সমাজের সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ষাট শতাংশ ভোটার মেয়াদসীমা প্রয়োগে সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যেখানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমর্থন আরও বেশি। তবে কিছু বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মেয়াদসীমা প্রয়োগে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতি ধারাবাহিকতার ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যা সরকারকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সরকার বর্তমানে মেয়াদসীমা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে বিশদ গবেষণা চালাচ্ছে। কমিটি সংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত এবং তাদের কাজের ফলাফল সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, সরকারী দপ্তরে মেয়াদসীমা সংক্রান্ত জনমত সংগ্রহের জন্য ব্যাপক পরামর্শ সভা ও টাউন হল মিটিং আয়োজন করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন স্তরের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে যদি মেয়াদসীমা সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধানও সমন্বিত করা হবে।