বর্ষার শেষ ও শরতের শুরুতে পূজার ছুটির সুযোগে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়ি মুখর হয়ে উঠেছে। পাহাড়, নদী ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের অফুরন্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড়ের তীব্রতা এমন যে, অনেক সময় পথচলাও কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যটকরা প্রকৃতির কোলে মিশে গিয়ে তাদের মানসিক চাপ দূর করতে ব্যস্ত। এই সময়ের ভিড় শুধুমাত্র পর্যটন সেক্টরকেই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন প্রাণ ফেরাতে সাহায্য করছে।
খাগড়াছড়ি জেলাটি তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশের মধ্যেই সর্বোচ্চ পরিচিত। পাহাড়ের গায়ে ঝরে পড়া ঝরনা, ঘন অরণ্য এবং নদীর তীরে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর এই এলাকাকে এক অনন্য পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। পূজার ছুটি হওয়ায় শহুরে মানুষ প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নিতে এখানে আসেন। স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পার্কজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রকৃতির সাথে মিশে ছবি তুলতে ব্যস্ত, আবার কেউ বন্ধু বা স্বজনদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়। এই সময়ে স্থানীয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং গাইডদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, যা অর্থনৈতিকভাবে উপকারী প্রভাব ফেলে।
পর্যটন সেক্টরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পূজার ছুটির সময় পর্যটক সংখ্যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেকগুণ বেশি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সময়ে তাদের বাড়ি বা দোকান খুলে পর্যটকদের সেবা দেন। পর্যটকদের মধ্যে শিশু, যুবক ও বয়স্ক মানুষের সমন্বয় দেখা যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতি উপভোগ করতেও তারা আগ্রহী। জনজীবনে এর প্রভাব ইতিবাচক, কারণ এতে স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং পর্যটন সচেতনতা বাড়তে থাকে। তবে ভিড়ের কারণে কিছুটা অসুবিধার কথাও শোনা যায়, বিশেষ করে পার্কিং ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত বিষয়ে।
কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যটন সেক্টরকে আরও গতিশীল করতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও মনোরম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার। এই পদক্ষেপগুলো সফল হলে খাগড়াছড়ি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও দৃঢ়পদ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখবে।