নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও পাবনা জেলায় ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে গৃহীত হয়েছে এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে গৃহীত হয়েছে সর্বশেষ সেশনের এসএসসি জিপিএ‑৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা। ঢাকা থেকে বহু শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতার উপস্থিতিতে ২৪শে অক্টোবর সকাল ১০টায় তিনটি শহরে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিটি স্থানে প্রায় দুইশো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন, যারা গর্বের সঙ্গে তাদের সাফল্যকে জাতীয় গর্বে রূপান্তরিত করতে চেয়েছেন। এই সংবর্ধনা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেয় না, বরং দেশের মানবসম্পদ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে।

এসএসসি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি স্তর, যেখানে জিপিএ‑৫ অর্জন করা শিক্ষার্থীরা শীর্ষ ১ শতাংশের মধ্যে স্থান পায়। গত দশকে গড় জিপিএ‑৫ ফলাফল ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারী শিক্ষানীতি, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ফলস্বরূপ। তবে জিপিএ‑৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অঞ্চলভেদে বৈষম্যপূর্ণ রয়ে গেছে; নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও পাবনা জেলাগুলো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ শিক্ষাগত মান বজায় রেখেছে। এই তিনটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি আধুনিক ল্যাব, কম্পিউটার সেন্টার ও গ্রন্থাগার স্থাপন করেছে, যা শিক্ষার্থীদের শিখন পরিবেশকে উন্নত করেছে এবং জিপিএ‑৫ অর্জনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের জেলা শিক্ষার কর্মকর্তা মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দিকনির্দেশনা প্রদান করে’। ফরিদপুরের মেয়র শ্রীমতি রেহানা বেগম যোগ করেন, ‘আমাদের জেলায় শিক্ষার প্রতি সমাজের মনোভাব ইতিবাচক, এবং এই সাফল্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে উদ্বুদ্ধ করবে’। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক জন, রাহিমুল হক, তার অভিভাবকের সঙ্গে ভাগ করে নেন, ‘আমি পরিবারকে গর্বিত করতে পারি, এবং এখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি’। উপস্থিত পিতামাতা ও শিক্ষকগণও সমবেতভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, স্কলারশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রস্তাব দেন, যা তাদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিপিএ‑৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারী স্কলারশিপ স্কিমের আওতায় পূর্ণ বৃত্তি, মাসিক ভাতা ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এছাড়া, উচ্চশিক্ষা প্রবেশের জন্য বিশেষ ভর্তি কোটা ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকরা এই ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে নিয়মিত করে, শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ ও নগর এলাকায় শিক্ষার মান সমান করার লক্ষ্যে কাজ করবেন। এই পদক্ষেপগুলো দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।