গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি দেশের বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালনা পরিচালক। স্বাক্ষরের মুহূর্তে উভয় পক্ষই টার্মিনালের দক্ষতা বৃদ্ধি, লোডিং‑ইউনলোডিং সময় হ্রাস এবং বাণিজ্যিক প্রবাহের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ প্রকাশ করে। চুক্তি অনুসারে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনালের দৈনিক পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হবে, যা বন্দর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।

নিউমুরিং টার্মিনাল ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ কার্যকরী হয় এবং প্রাথমিকভাবে জাতীয় বাণিজ্যিক শিপিং লাইনগুলোর জন্য সীমিত ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিক চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে টার্মিনালের বিদ্যমান সুবিধা যথেষ্ট নয় বলে ধারণা করা হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ড, যা বিশ্বব্যাপী বন্দর পরিচালনা ও লজিস্টিক্সে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, এই ঘাটতি পূরণে ১.৫ বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় গেট এবং রিয়েল‑টাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম টার্মিনালে স্থাপন করা হবে, যা লোডিং‑ইউনলোডিং চক্রকে বর্তমানের অর্ধেক সময়ে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কর্মকর্তা জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানের হাব হিসেবে পুনর্গঠন হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সিইও উল্লেখ করেন, এই সহযোগিতা দেশের রপ্তানি‑ইম্পোর্ট খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দেবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টদেরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; তারা আশা প্রকাশ করেন যে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ফলে জাহাজের অপেক্ষা সময় কমে, পণ্য সরবরাহের সময়সীমা স্বল্প হবে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের মূল্য হ্রাস পাবে। তবে কিছু শ্রমিক সংগঠন টার্মিনালের অটোমেশন প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থান হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যথাযথ পুনঃপ্রশিক্ষণ পরিকল্পনা চেয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে টার্মিনালের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন করে টার্মিনালকে পূর্ণ কার্যকরী অবস্থায় আনা হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, বন্দর নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনায় টার্মিনালটি দেশের অন্যান্য বন্দরেও একই ধরনের আধুনিকায়ন মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং বাণিজ্যিক প্রবাহের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে।