প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা ফটিকছড়ি উপজেলার উদালিয়া চা‑বাগানে অবস্থিত আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছেন। এই ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল চা‑বাগানের দরিদ্র পরিবারগুলোর সন্তানদের জন্য নতুন স্কুলব্যাগ, খাতা ও পেন্সিল সরবরাহ করা, যাতে তাদের শিক্ষার প্রারম্ভিক পর্যায়ে আর্থিক বাধা কমে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। উপহার বিতরণে উপস্থিত শিশুরা আনন্দে উল্লাস করে, শিক্ষকেরা ও অভিভাবকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা স্থানীয় সমাজে এক নতুন আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে।

উদালিয়া চা‑বাগান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ চা‑বাগান, যেখানে অধিকাংশ শ্রমিকের পরিবার কৃষিকাজের পাশাপাশি চা‑পাতা সংগ্রহে নিয়োজিত। এই অঞ্চলের শিক্ষার অবস্থা দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার, কারণ অধিকাংশ পরিবারে শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করা কঠিন। আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, তবে সীমিত সম্পদ ও অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও গুণগত মান বৃদ্ধি পেতে বাধা পেয়েছে। ‘একটি ভালো কাজ’ সংস্থা এই সমস্যার সমাধানে প্রথমবারের মতো চা‑বাগানের শিশুরা লক্ষ্য করে একটি বৃহৎ দানমূলক কার্যক্রম চালু করেছে, যা স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উদ্যানের প্রধান শিক্ষক শ্রীমতি রোশনী বেগম জানান, “এই উপহারগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অমূল্য সহায়তা, কারণ এখন তারা নতুন ব্যাগে বই ও নোটবুক বহন করতে পারবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে।” দাতাদের প্রতিনিধি রাহুল চৌধুরী যোগ করেন, “আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা হল সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি; তাই আমরা চা‑বাগানের শিশুরা যেন কোনো বাধা ছাড়া শিক্ষার পথে অগ্রসর হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চাই।” অভিভাবকরা তীব্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, “বাচ্চাদের মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়, তা আমাদের জন্যই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।” শিশুরা নতুন ব্যাগে বই ভর্তি করে, পেন্সিলের নকশা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে হাসি ফোটায়, যা পুরো বিদ্যালয়ের পরিবেশকে উজ্জীবিত করে।

স্থানীয় প্রশাসন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জহিরুল হক জানান, “শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত কাজই সাফল্যের চাবিকাঠি। আমরা এই ধরনের দানমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করব এবং চা‑বাগানের শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা করছি।” এছাড়া, জেলা শিক্ষা অফিস শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা, পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং বিদ্যালয়ের শারীরিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে এই ধরনের দানমূলক উদ্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়।