এনসিপি (ন্যাশনাল পার্টি) এর স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই সংগঠনটি পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মাহিন ও আরিফ উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের সঙ্গে রনি নামের নতুন স্বেচ্ছাসেবক নেতা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এনসিপি দেশের বিভিন্ন স্তরে স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং সামাজিক‑রাজনৈতিক ও মানবিক কাজের সমন্বয় সাধন করতে চায়।

‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ গঠনের পটভূমি হল গত কয়েক বছরে স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতা এবং কার্যকর সমন্বয়ের অভাব। পূর্বে এনসিপি বিভিন্ন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে আসছে, তবে কোনো একক কাঠামো না থাকায় কাজের পরিধি সীমিত ছিল। নাহিদ ইসলাম এই ঘাটতি দূর করতে এবং পার্টির জনমত গঠন, দুর্যোগ মোকাবেলা, গ্রামীণ উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দিতে একটি কেন্দ্রীভূত সংস্থা গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। সদস্যসচিব আখতার হোসেনের তত্ত্বাবধানে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ, তহবিল সংগ্রহ এবং কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো স্থাপন করা হয়।

আত্মপ্রকাশের পর পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিক মন্তব্য প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি পার্টির জনসেবা মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে; এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্বকে বাস্তবায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।” মাহিন যোগ করেন, “স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে, ফলে নীতি‑নির্ধারণে বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে।” আরিফের মন্তব্যে জোর দেওয়া হয়, “এই সংগঠন দুর্যোগের সময় দ্রুত ত্রাণ কাজ চালাতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” রনি, নতুন স্বেচ্ছাসেবক নেতা, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেবার প্রতিশ্রুতি দেন, যা জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আত্মপ্রকাশের পরপরই সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। প্রথম ধাপে দেশব্যাপী ১০০টি স্বেচ্ছাসেবক ইউনিট গঠন, প্রতিটি ইউনিটে প্রশিক্ষিত কর্মী, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। তদুপরি, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষামূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি চালু করা হবে। ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাসেবক শক্তি পার্টির নীতি‑প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নাগরিকের মতামত সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে এবং নির্বাচনী সময়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল গঠন করবে। এই পদক্ষেপগুলো স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।