বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি গতকাল রাত দশটায় ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় অজানা অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছেন। তাঁর দেহে কোনো স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও, মৃতদেহের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা রক্তের দাগ এবং ফোনে পাওয়া অস্বাভাবিক কলের রেকর্ড ঘটনাটিকে রহস্যময় করে তুলেছে। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টিগোচর করে, কারণ তিনি একসময় বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুর কারণ এখনো পরিষ্কার না হওয়ায়, জাতি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটেছে।
তাহসিফ সাউরি ২০১৫ সালে বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে নিয়োগ পান এবং কয়েকটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে অংশ নেন। তবে ২০২৪ সালের একলা সেপ্টেম্বর তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ এবং গোপন তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি সামরিক বেসের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং কিছু মিডিয়া সূত্রে জানানো হয়, তিনি কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তার চাকরি থেকে বরখাস্তের পেছনে থাকা নীতিগত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি, যা তার মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমন অনুমানকে তীব্র করে তুলেছে।
তাহসিফের পরিবার এবং নিকটস্থ সহকর্মীরা ঘটনাটিকে “অপ্রত্যাশিত” ও “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেছেন। তার স্ত্রী জানান, মৃতদেহের অবস্থান ও সময়ের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা বা হুমকির কোনো রেকর্ড নেই। একই সঙ্গে, তার কিছু সহকর্মী বলেন, তাহসিফের বরখাস্তের পর থেকে তিনি মানসিক চাপের শিকার ছিলেন এবং কিছুদিন আগে তিনি আত্মরক্ষার জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখতে কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করতেন। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতি ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে; অনেক নাগরিক নিরাপত্তা সংস্থার স্বচ্ছতা ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, আর কিছু বিশ্লেষক এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করেছে। তদন্তের প্রথম পর্যায়ে মৃতদেহের রক্তের নমুনা, ফোনের কল রেকর্ড এবং গুলশান এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি, বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো গোপন তথ্যের লিকের সম্ভাবনা যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফল পাবলিকভাবে প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার করা হবে।