বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শোকগৃহীত পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও পুলিশ কোনো মামলা দায়ের করেনি, বরং শুধুমাত্র জিডি করে বিষয়টি নীরবে চাপা দিতে চাইছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত মামলা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গতকাল বিকেলে হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন আক্তার হোসেন। হঠাৎ করে নদীর মাঝে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের কাছে মামলার দাবি জানাতে শুরু করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তের জন্য সময় লাগবে বলে মামলা দায়ের করা হয়নি, শুধুমাত্র জিডি করা হয়েছে।

নিহত জেলের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের না করে জিডি করে বিষয়টি হালকা করে ফেলতে চাইছে। স্থানীয় নেতারাও পুলিশের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যু হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। জনজীবনে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে, নদীতে মাছ ধরতে নেমে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দাবি করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে নদীতে এমন ঘটনা রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের আস্থা বজায় রাখতে পুলিশের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।