পূর্বাচল ও ঝিলমিলে মোট ১,০৭৪টি প্লটের বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট নথি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের সর্বোচ্চ পরিকল্পনা সংস্থা এবং নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের নগর পরিকল্পনা ও ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত। এই অনিয়মের প্রকাশে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ ভূমি বরাদ্দের স্বচ্ছতা না থাকলে দুর্নীতি ও স্বার্থপরতার সুযোগ তৈরি হয়। তাই, এই ঘটনা দেশের নগর উন্নয়ন নীতির প্রতি আস্থা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১৪১৩টি প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা ও পার্টি সংযোগের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। পূর্বাচল প্রকল্পের দ্রুত বিকাশের পেছনে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বার্থ গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অতএব, এই অনিয়মের মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নথিপত্রের অনিয়মিত রেকর্ড এবং স্বচ্ছতা না থাকা উল্লেখ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নগর পরিকল্পনা সংস্থার মুখপাত্ররা একে একে মন্তব্য করে বলেছেন যে, অনিয়মের তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিরোধী দলও এই ঘটনাকে সরকারের দুর্নীতি বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং তৎক্ষণাৎ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, অনিয়মের ফলে তাদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা চাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের জনমতকে প্রভাবিত করে, বিশেষত নগর উন্নয়ন ও ভূমি নীতি সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।
অধিকর্তা পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; অনিয়মিত নথি স্থগিত করা হয়েছে এবং একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল নথি, বরাদ্দ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রমাণ সংগ্রহ করবে। তদুপরি, ভবিষ্যতে ভূমি বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের নগর পরিকল্পনা নীতি পুনর্গঠন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গৃহীত।