সরকারি কাজের ঠিকাদার বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বেশি বার্ষিক লেনদেন অথবা পূর্বে বড় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে। এই পরিবর্তনটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তৎক্ষণাৎ কার্যকর হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের দরপত্রে নতুন আবেদনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হবে, যা প্রকল্পের গুণমান ও খরচে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পূর্বে সরকারী ঠিকাদার বাছাই প্রক্রিয়া প্রধানত অভিজ্ঞ ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল ছিল; ফলে নতুন ও উদীয়মান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ কমে যেত। এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে বহু বছরের সমালোচনা ও ন্যায়বিচার সংস্থার সুপারিশ কাজ করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিনের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান হ্রাসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নতুন নীতি এই সমস্যাগুলোকে সমাধান করে সমান সুযোগের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, “অভিজ্ঞতা ও আর্থিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি দেশের উন্নয়নে সমানভাবে অবদান রাখে।” একই সঙ্গে কিছু বড় ঠিকাদার সংস্থা এই নীতিকে “ঝুঁকিপূর্ণ” বলে সমালোচনা করেছে, কারণ তারা অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। তবে স্থানীয় ব্যবসা সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। সাধারণ জনগণও সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বাড়বে বলে আশাবাদী।
প্রয়োগের জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে নতুন ও প্রতিষ্ঠিত উভয় ধরনের ঠিকাদারই দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সকল সরকারি সংস্থাকে এই সিস্টেমে রূপান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, নতুন ঠিকাদারদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা, আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা প্রকল্পের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়। ভবিষ্যতে এই নীতি দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।