প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকাল ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় নানাবাড়ির গ্রামভিত্তিক ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়িতে গৃহপরিদর্শনের জন্য উপস্থিত হয়েছেন। তিনি গৃহপ্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় নিশ্চিত করে, উপস্থিত জনগণের স্বাগত গ্রহণ করেন। এই সফরটি দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী গাঁথা ও বর্তমান শাসনব্যবস্থার সংযোগস্থল হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ইস্কান্দার মজুমদার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের প্রথম সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি।

ইস্কান্দার মজুমদার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথম সংসদে স্বাধীনতার নীতি রক্ষার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং তার সন্তান খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দু’বার প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। নানাবাড়ি গ্রামটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহুবার গণঅভ্যুত্থান ও জনসমাবেশের আয়োজন হয়েছে। ফেনীর এই অংশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণে অবদান রাখছে, ফলে প্রধানমন্ত্রীকে এই অঞ্চলে উপস্থিতি দেশের সমগ্র উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এই সফরের মাধ্যমে গ্রামটির উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদী। নিকটবর্তী গ্রামসভা সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি নানাবাড়ি ও আশেপাশের এলাকার সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের অবকাঠামো উন্নত করার জন্য নতুন বাজেট বরাদ্দের সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিরোধী দল থেকে কিছু নেতার মন্তব্যে দেখা যায়, সফরটি রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে বলে সমালোচনা, তবে অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর স্থানীয় জনমতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং জাতীয় সংহতি বাড়ায়।

প্রশাসনিক দিক থেকে ফেনী জেলা প্রশাসক সফরের পর দ্রুত কাজের তালিকা প্রস্তুত করে, গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী রোড মেরামত, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সম্প্রসারণ এবং কৃষি সেবা কেন্দ্রের স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সফরকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে দেশের প্রত্যেক কোণায় উন্নয়নের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায় এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করা যায়।