চট্টগ্রাম নগরের সর্বাধিক ব্যস্ততম জামাল খান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ঠিক নিচের ফুটপাতে চারজন তরুণী মশারি টানিয়ে বসে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মশা দমনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এই তরুণীরা রাস্তায় শরণ পেয়েছেন। তারা গৃহহীন নয়, তবে মশা রোগের ভয় ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এই অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এই ঘটনা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মশা দমন নীতি ও নগর পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মশা দমনের জন্য চট্টগ্রাম মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (সিএমসি) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিকবার স্প্রে ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রেইনফল ও বৃষ্টির পরিমাণের বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অবৈধ নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ে, যা মশার প্রজননের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অতিরিক্তভাবে, নগর এলাকায় গৃহহীনদের জন্য যথাযথ আশ্রয় ও স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় মশা দমনের প্রচেষ্টা সীমিত হয়ে পড়ে। এই পটভূমিতে চার তরুণীর মশারি টানিয়ে বসা একটি সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন, যা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য নয়, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

চার তরুণীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তারা জানান, মশা রোগের ভয় এবং সাম্প্রতিক মাসে বাড়তি চিকিৎসা ব্যয় তাদেরকে এই অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীও মশা দমনের অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; তারা উল্লেখ করেন, মশা রোগের বিস্তার তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফুটপাতের রক্ষণাবেক্ষণ ও মশা দমনের জন্য অতিরিক্ত স্প্রে ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম মিউনিসিপাল কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তারা আগামী সপ্তাহে অতিরিক্ত স্প্রে ক্যাম্পেইন চালু করবে, পাশাপাশি ড্রেনেজ পরিষ্কার ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। গৃহহীন ও দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী শরণস্থল ও স্যানিটেশন সুবিধা প্রদানেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে মশা দমনের কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো মশা রোগের বিস্তার রোধে এবং শহরের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।