গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয় ২১শে অক্টোবর, ঢাকা শহরের জাতীয় সম্মেলন হলের আয়োজন করা এক বৃহৎ সমাবেশে ‘ইহসান’ ক্যাম্পেইনের সূচনা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর অশর্ত দান—জীবন, আলো, বাতাস ও রিজিক—এর প্রতিফলন হিসেবে সমাজের প্রতিটি স্তরে দয়ালুতা ও মানবিক সহানুভূতি বিস্তৃত করা। সমাবেশে উপস্থিত বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের সমর্থন পেয়ে সরকার তৎক্ষণাৎ এই ক্যাম্পেইনকে জাতীয় স্তরে চালু করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
‘ইহসান’ শব্দের অর্থ হল সৎকর্ম, ন্যায়পরায়ণতা এবং অন্যের প্রতি সদয় আচরণ, যা ইসলামী শিক্ষায় আল্লাহর অমোচনীয় দয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। অতীতে ধর্মমন্ত্রণালয় বহুবার ‘ইহসান’ ভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে, তবে এইবার সম্পূর্ণ দেশব্যাপী কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের পটভূমিতে রয়েছে ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখিত যে, আল্লাহ কোনো শর্ত ছাড়াই মানবজাতিকে জীবন, আলো, বাতাস ও রিজিক প্রদান করেন এবং তার করুণার বৃষ্টি অবিরামভাবে বর্ষণ করেন; তাই মানুষেরও এই দানকে প্রতিফলিত করে পারস্পরিক সহায়তা ও দয়ালুতা চর্চা করা উচিত।
সমাবেশে ধর্মীয় মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহিদুল হক বলেন, “আল্লাহর অশর্ত দানকে স্মরণ করে আমরা যদি প্রত্যেকের জীবনে ‘ইহসান’ের সঞ্চার করি, তবে সমাজের নৈতিক ভিত্তি মজবুত হবে।” পাশাপাশি, ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক মোহাম্মদ রশীদের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আল্লাহর দয়া ও করুণা মানবের মধ্যে সঞ্চারিত হলে সামাজিক সংঘাত হ্রাস পাবে এবং সমন্বিত উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে।” সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়; ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দা সামাজিক মিডিয়ায় ক্যাম্পেইনের সমর্থন প্রকাশ করে এবং পারস্পরিক সহায়তার উদাহরণ শেয়ার করছেন।
ক্যাম্পেইনের বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১০০টি জেলা অফিসে ‘ইহসান’ কর্মশালা চালু করেছে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক পুস্তিকা বিতরণ শুরু করেছে। তদুপরি, ধর্মমন্ত্রণালয় আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যালয় ও মসজিদে বিশেষ শিক্ষামূলক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে তরুণ প্রজন্মকে দয়ালু আচরণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা যায়। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে টেকসই করতে সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘ইহসান’ অ্যাপ্লিকেশন চালু করার কথা বিবেচনা করছে, যা নাগরিকদের দান, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং সামাজিক দায়িত্বের রেকর্ড রাখতে সহায়তা করবে।